চামড়া পাচার হওয়া রোধে সরকারকে আন্তরিক হওয়ার আহ্বান।। বিটিএ চেয়ারম্যান shomoybd24

সম্পাদক-প্রকাশকঃ মারুফুর রহমান ফকির
মঙ্গল, 05.09.2017 - 09:55 PM
Share icon
নিজস্ব প্রতিবেদক, সময়বিডি২৪
প্রকাশিত : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭
আগামী সপ্তাহ থেকে ট্যানারি মালিকরা চামড়া সংগ্রহ করবেন। এটা চলবে দুই মাস পর্যন্ত। সরকারের বেঁধে দেয়া দামে কোরবানির সব চামড়া কেনা হবে বলেও জানিয়েছেন ট্যানারি মালিকরা। সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের ( বিটিএ) চেয়ারম্যন শাহীন আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। সংস্থাটির রাজধানীর ধানমন্ডি কর্যামলয়ে এ সংবাদ সম্মেল হয়। শাহীন আহমেদ বলেন, ‘চামড়া নিয়ে কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের কোনো দুশ্চিন্তার কারণ নেই। তারা লবণ দিয়ে এ চামড়া সংরক্ষণ করুক। আমরা আগামী সপ্তাহ থেকে দেশব্যাপী চামড়া কেনা শুরু করবো আমাদের এজেন্টদের মাধ্যমে। সরকারের বেঁধে দেয়া দামেই আমরা চামড়া কিনবো।’ লবন দেয়ায় খরচ বেশি হয় এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা সাধারণত সরকারের বেঁধে দেয়া দামের চেয়েও ৫ শতাংশ বেশি দাম দিয়ে চামড়া কিনে থাকি। কারণ লবণ খরচ, পরিবহন, লেবার খরচ দিতে হয় কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের।’ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এবার গতবারের দামেই দাম ধরা হয়েছে চামড়ার। ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, ঢাকার বাইরের গরুর চামড়ার দাম ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। এ ছাড়া রাজধানীর বাইরে প্রতি বর্গফুট ছাগলের চামড়ার দাম ২০ থেকে ২২ টাকা এবং খাসির চামড়ার দাম ১৫ থেকে ১৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের ট্যানারি শিল্পের প্রধান উপাদান কাঁচা চামড়ার ৬০-৭০ শতাংশই আসে কোরবানির ঈদে। এবার ৫৫ লাখ গরুর চামড়াসহ ৭০ থেকে ৭৫ লাখ চামড়া সংগ্রহের আশা প্রকাশ করেন বিটিএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘প্রতি বছর ১০ শতাংশ করে ধারাবাহিকভাবে কোরবানি বাড়ে। কিন্তু সেটা এবছর বাড়েনি।’ সরাসরি ট্যানারি মালিকরা চামড়া কেনার বিষয়ে এক প্রশ্নেন জবাবে তিনি বলেন, ‘সেটা হয়তো ৫ শতাংশ হতে পারে। তবে প্রতিবছরের মতো এ বছর আড়তদারদের অগ্রিম কোনো টাকা দিতে পারিনি আমরা।’ এবার বেশি চামড়া পাচার হওয়ার আশঙ্কা করে শাহীন আহমেদ বলেন, ‘প্রতি বছর ২০ শতাংশের মতো চামড়া পাচার হয়। সাভারে আমাদের স্থাপনাগুলো এখনো সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়নি। এছাড়া বিভিন্ন কারণে এ বছর চামড়া সংগ্রহ একটু ধীর হবে। তাই এবার একটু বেশি পাচার হওয়ার আশঙ্কা করছি আমরা। ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় লোন এবার আমরা পাইনি। এর কারণ আমরা চামড়ার মূল্য হিসেবে এ বছর আড়তদারদের তেমন অগ্রিম দিতে পারিনি। এ সুযোগটা পাচারকারীরা গ্রহণ করে নগদ অর্থ দিয়ে চামড়া কিনে সীমান্ত দিয়ে পাচার করতে পারে।’ তাই পাচার হওয়া রোধে সরকারকে আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান বিটিএ চেয়ারম্যান। ব্যাংক ঋণের গত বছরও ৪৫৬ কোটি টাকা পেয়েছে। সেটা ট্যানারি স্থানান্তরসহ বিভিন্ন কারণে পরিশোধ না করার জন্য অনেক ব্যাংক এবার লোন দেয়নি জানিয়ে শাহীন আহমেদ বলেন, ‘এবার লোন পেয়েছি ৩৫০ কোটি টাকা। রাষ্ট্রায়ত্ব জনতা ব্যাংক থেকে গত বছর ২০০ কোটি টাকা অগ্রিম হিসেবে পেয়েছিলাম। কিন্তু এ বছর তারা একটা টাকাও দেয়নি।’ ব্যাংকগুলোর প্রতি ঋণ দিতে অনুরোধ করে তিনি বলেন, ‘গত ২০ বছরে কোনো ট্যানারি মালিক ঋণখেলাপি হয়নি। এবার আমাদের ট্যানারি সাভারে হস্তান্তর করার কারণে ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে। তাই গত বছরের লোন পরিশোধ করতে পারেনি। সাধারণত ব্যাংগুলো এক বছরে মধ্যে পরিশোধ করার শর্তে ঋণ দিয়ে থাকে।’ শাহীন আহমেদ বলেন, ‘এ বছর এপ্রিলে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তর হওয়ার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। চলতি বছরে (২০১৬-২০১৭) ৪০০ মিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল, হঠাৎ করে চামড়া শিল্প স্থানান্তরসহ বিভিন্ন কারণে মাত্র ২৩২ মিলিয়ন চামড়া রপ্তানি হয়েছে।’ এবারও এর বেশি রপ্তানি হবে না বলে জানান তিনি। ২০১৪-২০১৫ তে ২৯৭ এবং ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে ২৭৭  মিলিয়ন ডলার রপ্তানি হয়েছে বলে জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে বিটিএ সাধারণ সম্পাদক মো. সাখাওয়াত উল্লাহ, কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
Share icon