প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ডের অপেক্ষায় প্যারালাইজড সুরেশ
অনাহারে-অর্ধাহারে কাটছে চার সদস্যের সংসার
ঝিনাইগাতী (শেরপুর) প্রতিনিধি: প্রায় তিন বছর ধরে শরীরের বাম পাশ অবশ হয়ে পড়ে আছেন শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সুরেশ চন্দ্র পাল। প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে বন্ধ হয়ে গেছে তাঁর উপার্জন। নেই কাজ করার সামর্থ্য, নেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অর্থ। স্ত্রী মাটির হাঁড়ি-পাতিল তৈরি করে যে সামান্য আয় করেন, তা দিয়েই কোনো রকমে চলছে চার সদস্যের সংসার। সহায়-সম্বল বলতে রয়েছে মাত্র ১০ শতাংশ জমি।
এমন অসহায় অবস্থার মধ্যেও প্রায় দুই বছর ধরে একটি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ডের অপেক্ষায় রয়েছেন সুরেশ চন্দ্র পাল। তিনি উপজেলার ধানশাইল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মরহুম কালীপদ পালের ছেলে। স্ত্রী চায়না রানী ও দুই ছেলেকে নিয়ে তাঁর সংসার।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় সুরেশ চন্দ্র পাল নিজেই মাটির হাঁড়ি-পাতিল তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। প্রায় তিন বছর আগে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁর শরীরের বাম পাশ অবশ হয়ে যায়। এরপর থেকে কর্মক্ষমতা হারিয়ে ঘরবন্দি হয়ে পড়েন তিনি।
সংসারের হাল ধরতে বাধ্য হয়েছেন তাঁর স্ত্রী চায়না রানী। তিনি নিজ হাতে মাটির হাঁড়ি-পাতিল তৈরি করে স্থানীয়ভাবে বিক্রি করেন। সেই সামান্য আয় দিয়ে চাল-ডালসহ পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক সময় অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে পরিবারটিকে। অর্থাভাবে সুরেশের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও নিয়মিত করানো সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
পরিবারের দাবি, প্রায় দুই বছর আগে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ডের জন্য উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে আবেদন করেছিলেন সুরেশ। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো তিনি সেই কার্ড পাননি। সরকারি কোনো সহায়তাও তাঁর ভাগ্যে জোটেনি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
শারীরিকভাবে কর্মক্ষমতাহীন ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল একজন ব্যক্তির সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আসতে দীর্ঘ সময় লাগায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের দাবি, প্রকৃত অসহায় ব্যক্তিদের যাচাই-বাছাই করে দ্রুত সরকারি সহায়তার আওতায় আনা প্রয়োজন।
সুরেশ চন্দ্র পাল বলেন, “শরীরের এক পাশ অচল। কোনো কাজ করতে পারি না। সংসারে অভাব, চিকিৎসার টাকাও নেই। অনেক আগে ভাতার জন্য আবেদন করেছি। সরকার যদি একটি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড দেয়, তাহলে পরিবারটি অন্তত বাঁচার একটা অবলম্বন পাবে।”
এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সানজা ইসলাম সানী বলেন, বিষয়টি তিনি দেখবেন।
