শেরপুরে হত্যা মামলার ৮ আসামীকে চার্জশীট থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার
সোম, 24.03.2025 - 05:39 PM
Share icon
Image

শেরপুর জেলার সদর উপজেলার বলাইয়েরচর ইউনিয়নের জঙ্গলদী মধ্যপাড়া গ্রামের আলোচিত দুই ভাই মোগল খাঁ ও লালু খাঁ হত্যা মামলার ১নং, ২নং আসামীসহ ৮ জন আসামীকে মামলার চার্জশীট থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে ২৪ মার্চ সোমবার সকাল ১১টায় সদর উপজেলার জঙ্গলদী মধ্যপাড়া নতুন মসজিদ প্রাঙ্গণে নিহত মোগল খাঁ ও লালু খাঁ এর পরিবারের সদস্যরা এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন। 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সম্মুখে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত কামাল উদ্দিন ওরফে লালু খাঁ এর মেয়ে লাভলী আক্তার। ওই সময় তিনি বলেন, জঙ্গলদী মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত রইছ উদ্দিনের ছেলে মামলার ১নং আসামী মোঃ দুলাল মিয়া গংদের সাথে মোঃ কামাল উদ্দিন ওরফে লালু খাঁ ও মোগল খাঁ পরিবারের ৫ একর ৮৮ শতাংশ কৃষি জমি নিয়ে বিরোধ এবং আদালতে মোকদ্দমা চলে আসছিল। এরই জের ধরে ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একই এলাকার প্রতিবেশী ত্রাস সৃষ্টিকারী ও ভূমিদস্যু মৃত রইছ উদ্দিনের ছেলে মোঃ দুলাল মিয়া ও মৃত আমজাদ হোসেনের ছেলে মোঃ কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে চিহ্নিত ৪২ জন ও অজ্ঞাতনামা আরো ১০/১৫ জন ধারালো অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা চালায়। 

ওইসময় মামলার ১নং আসামী মোঃ দুলাল মিয়া অন্যান্য আসামীদের সহযোগিতায় কামাল উদ্দিন ওরফে লালু খাঁকে বুকে এক কাইল্লা দিয়ে ঘাই মারলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিক তার ভাই মোগল খাঁ তাকে উদ্ধার করতে গেলে মামলার ৮নং আসামী সুনিল মিয়ার ছেলে মোঃ সীমান্ত বাবু শাবল দিয়ে মোগল খাঁ এর নাভীর নিচে ঘাই মেরে ওই সহোদর দুই ভাই কামাল উদ্দিন ওরফে লালু খাঁ ও মোগল খাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করে।

এঘটনায় নিহত কামাল উদ্দিন ওরফে লালু খাঁ এর স্ত্রী সরুফা বেগম বাদী হয়ে ৪২ জনকে চিহ্নিত ও ১০/১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে শেরপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এদিকে মামলার আসামীরা উচ্চ আদালতে থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে মামলার বাদীসহ নিহত লালু খাঁ ও মোগল খাঁ এর পরিবারের সদস্যদের হুমকি ধামকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন। 

এছাড়াও ওই আলোচিত হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বলেন, তিনি আসামীদের পক্ষাশ্রিত হয়ে ১নং আসামী মৃত রইছ উদ্দিনের ছেলে মোঃ দুলাল মিয়া (৪২), মৃত আমজাদ হোসেনের ছেলে মোঃ কামরুজ্জামান (৩৮), মৃত ডেঙ্গু সুতারের ছেলে মোঃ আঃ গনি (৫০), অপর ভাই মোঃ রবিন (২০),  মৃত গোলাপ হোসেনের ছেলে মোঃ হেলাল মিয়া (৪০), ছালেম উদ্দিনের ছেলে আব্দুস সামাদ (৫০), আশরাফ আলীর ছেলে নয়ন মিয়া (২০) ও হযরত আলীর ছেলে আশরাফ আলী (৩৯) সহ ৮ জন চিহ্নিত আসামীদের চার্জশীট থেকে বাদ (অব্যাহতি) দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। 

তাই ন্যায় বিচারের স্বার্থে এমন আলোচিত হত্যা মামলার পুনরায় সুক্ষ্য তদন্ত করে ওইসব বাদ দেওয়া আসামীদের চার্জশীটে নাম অর্ন্তভুক্ত করার দাবি জানান। এব্যাপারে পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ এবং হত্যার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। 

সংবাদ সম্মেলনে নিহত দুই সহোদর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সরুফা বেগম, শফিকুল ইসলাম, শফিক, নূর মোহাম্মদ, আব্দুল গণি, আব্দুল বারেক, আশরাফ আলী, এরশাদ আলী, ইয়ানুছ আলীসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকসহ এলাকার নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।

Share icon