বিজয়ে ঈর্ষান্বিত হয়ে বহিষ্কার, বাদশার অনুসারীদের বিক্ষোভে উত্তাল ঝিনাইগাতী

মারুফুর রহমান, শেরপুর।। ২০২৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম বাদশাকে দল থেকে বহিষ্কার করায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের মুখে পড়েছে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা। শনিবার বিকেলে তার অনুসারীদের আয়োজনে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভ মিছিলটি উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শুরু হয়ে হাসপাতাল রোড হয়ে ধানপট্টি মোড়ে গিয়ে সমাবেশে পরিণত হয়। বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত চলে এই কর্মসূচি।
বিএনপি নেতা ও উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা বলেন, “আমি ২০২৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পরপরই আমাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়, যা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ। আমার জনপ্রিয়তা মেনে নিতে না পেরে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি মাহমুদুল হক রুবেলের নেতৃত্বে এ ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।
”সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সামাজিক মাধ্যমে যেভাবে অপমান করা হয়েছে, তা দলীয় শৃঙ্খলা ও আদর্শের পরিপন্থী। তারা এরও তীব্র প্রতিবাদ জানান।
উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিন আরমান মাছুদ তার বক্তব্যে বলেন,“বিজয়ী নেতাকে বহিষ্কার করে সাধারণ নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশা তৈরি করা হয়েছে। দলের ভিতরে ষড়যন্ত্র চলছে।”
উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক এফ এম সুলতান মাহমুদ, “তৃণমূলের নেতা বাদশাকে বহিষ্কার করে বিএনপি নিজের দুর্বলতাই প্রমাণ করেছে।”
উপজেলা ওলামা দলের সাবেক সভাপতি ক্বারী মো. জহুরুল ইসলাম, “জনগণের রায় নিয়ে বিজয়ী নেতাকে বহিষ্কার করা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।”
১নং কাংশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান, “জনপ্রিয় নেতা বাদশাকে বাদ দেওয়ায় আমরা ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত।
”উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জহুরুল হক জনি, “তারেক রহমানকে অপমানের বিষয়েও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে সঠিক অবস্থান নিতে হবে।”
হাতীবান্ধা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, “জনপ্রিয় নেতাদের হটাতে যারা দলের ভিতরে ষড়যন্ত্র করছে, তারা বিএনপির ক্ষতি করছে।”
ধানশাইল ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি খাইরুল ইসলাম, “গণতান্ত্রিক সমাজে বিজয়ী নেতাকে শাস্তি নয়, সম্মান জানাতে হয়।”
বক্তারা দাবি জানান, বাদশার বহিষ্কারাদেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় আন্দোলন জেলায় ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলেও তারা হুঁশিয়ারি দেন।