দলীয় বিভক্তির খেসারত: শেরপুর-১ আসনে বিএনপির হার
মো: মারুফুর রহমান: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-১ (সদর) আসনের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয়েছে -দলীয় কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীর উপস্থিতিই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর পরাজয়ের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. রাশেদুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ৯৪১ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা পেয়েছেন ৭৭ হাজার ৮০৮ ভোট।
এ আসনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ অর্জন করেছেন ৬১ হাজার ৭৩৩ ভোট। ফলে ধানের শীষ ও স্বতন্ত্র এই দুই প্রার্থীর মোট প্রাপ্ত ভোট দাঁড়ায় ১ লাখ ৩৯ হাজার ৫৪১ -যা বিজয়ী প্রার্থীর চেয়ে ১৩ হাজার ৬০০ ভোট বেশি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলে ফলাফল ভিন্ন হতে পারত।
দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি সদ্য বিলুপ্ত জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন এবং এর আগে ছাত্রদল ও যুবদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
নির্বাচনের আগেই স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ছিল -বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে থাকলে ধানের শীষের প্রার্থীর ভোটে বিভাজন ঘটতে পারে। ফলাফল ঘোষণার পর সেই আশঙ্কাই বাস্তবে প্রতিফলিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন একাধিক নেতা।
দলীয় সূত্র জানায়, জেলা বিএনপির উল্লেখযোগ্য অংশের নেতাকর্মী বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয় ছিলেন। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত সমন্বয় সম্ভব হয়নি।
এদিকে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে নির্বাচন কমিশন ভোট স্থগিত করে। পরবর্তীতে ওই আসনের নেতাকর্মীরা শেরপুর-১ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেন। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, এ সমর্থন বিজয়ী প্রার্থীর অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছে।
দলীয় নেতাদের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় পর শেরপুর-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হলেও অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় তা বাস্তবায়িত হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে এ আসনে শক্ত অবস্থান গড়তে চাইলে সাংগঠনিকভাবে প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে- দলীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা, অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন এবং তৃণমূল পর্যায়ে সমন্বয় জোরদার করা। পাশাপাশি মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, বিদ্রোহী প্রার্থিতা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি হয়ে পড়বে।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য, ভোটের অঙ্কে নয় -ঐক্যের অঙ্কেই এবার হেরেছে বিএনপি। ভবিষ্যৎ নির্বাচনে এ অভিজ্ঞতা দলটির জন্য বড় শিক্ষা হয়ে থাকবে।
