কনকনে শীতে বিপর্যস্ত শেরপুর: পাকুরিয়া ইউনিয়নে শীতার্তদের কম্বল বিতরণ

স্টাফ রিপোর্টার
রবি, 04.01.2026 - 06:33 AM
Share icon
Image

মারুফুর রহমান, শেরপুর: ৪ জানুয়ারি ২০২৬

টানা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে সূর্যের দেখা না মেলায় কনকনে শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে শেরপুরের জনজীবন। প্রচণ্ড ঠান্ডায় বিশেষ করে দরিদ্র, অসহায় ও বৃদ্ধ মানুষজন শীতবস্ত্রের অভাবে চরম কষ্টে দিন যাপন করছেন। এমন পরিস্থিতিতে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে শেরপুর সদর উপজেলার ৬ নং পাকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ।

উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রাপ্ত শীতবস্ত্রের অংশ হিসেবে রবিবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে পাকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবন প্রাঙ্গণে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের শীতার্ত মানুষের মাঝে ১৬০টি কম্বল বিতরণ করা হয়।

কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এমারুল জাহিদ এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াদুদ। এ সময় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রশাসনিক কর্মকর্তা এমারুল জাহিদ বলেন, “দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলমান তীব্র শীতের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। সূর্যের আলো না থাকায় দিনভর ঠান্ডা বিরাজ করছে। শীতবস্ত্রের অভাবে নিম্নআয়ের মানুষজন সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রাপ্ত কম্বলগুলো জরুরি ভিত্তিতে বিতরণ করা হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আরও বেশি শীতবস্ত্র বরাদ্দ একান্ত প্রয়োজন।”

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, “পাকুরিয়া ইউনিয়ন সদর উপজেলার অন্যতম বড় ও জনবহুল ইউনিয়ন। এখানে দরিদ্র ও শীতার্ত মানুষের সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে বেশি। প্রাথমিকভাবে ১৬০টি কম্বল বিতরণ করা হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। শীতের তীব্রতা অব্যাহত থাকলে সামনে আরও কম্বল বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

Image

এ সময় পাকুরিয়া চকপাড়া আশরাফুল উলুম নুরজাহান হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষার্থী মো. নাদিম ইসলাম বলেন, “আমাদের মাদ্রাসা ও এতিমখানায় অনেক এতিম ছাত্র রয়েছে। তারা শীতের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে আছে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য একটি করে কম্বল পেলে এই শীতে তারা নিরাপদে থাকতে পারবে।”

কম্বল পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অজুফা নামের এক বৃদ্ধা। তিনি বলেন, “কয়েকদিন ধরে খুব কষ্টে ছিলাম। রাতে ঘুমাতে পারতাম না। আজ এই কম্বল পেয়ে অনেক স্বস্তি পেলাম। সরকার ও ইউনিয়ন পরিষদের কাছে কৃতজ্ঞ।”

এদিকে ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, চলমান শীত পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে শীতবস্ত্র বিতরণের পরিমাণ আরও বাড়ানো না হলে নিম্নআয়ের মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে। তারা অবিলম্বে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত শীতবস্ত্র বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন।

Share icon