নজরুলের বর্ষার গান নিয়ে ‘সুর-মুকুর’র মনোজ্ঞ আয়োজন
রশিদুন নবীকে সংবর্ধনা, ‘বাদল বঁধু এলো শ্রাবণ-সাঁঝে’ শীর্ষক সংগীতানুষ্ঠান
জেলা প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ: নজরুলচর্চা, সংগীত ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিতে ময়মনসিংহে কাজ করে যাচ্ছে সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সুর-মুকুর’। এরই ধারাবাহিকতায় সংগঠনটির উদ্যোগে ‘বাংলা একাডেমি নজরুল পুরস্কার-২০২৬’প্রাপ্ত বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক ও সংগীতজ্ঞ এবং সুর-মুকুরের সভাপতি প্রফেসর ড. রশিদুন্ নবীকে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বর্ষার গান নিয়ে আয়োজন করা হয় বিশেষ সংগীতানুষ্ঠান ‘বাদল বঁধু এলো শ্রাবণ-সাঁঝে’।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল ৫টায় ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী ‘এশিয়ান সংগীত জাদুঘর’ মিলনায়তনে সুর-মুকুরের আয়োজনে উৎসবমুখর পরিবেশে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
সুর-মুকুরের সহসভাপতি ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের প্রফেসর ড. আহমেদ শাকিল হাশমী। বিশেষ অতিথি ছিলেন একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুমা রাণী রায়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সুর-মুকুরের সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আশিক সরকার।
অনুষ্ঠানে সুর-মুকুরের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও নজরুলচর্চার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। সংগঠনটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী ও সংগীতানুরাগীদের পাশাপাশি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এতে অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শাহ সাইফুল আলম পান্নু, স্বপন সরকার, প্রদীপ চক্রবর্তী, রেজাউল করিম আসলাম, সুবীর বরণ ধর বিলু ও ‘বেহাগ’-এর স্বত্বাধিকারী মো. মাহফুজুর রহমান বাবুসহ অনেকে।
সংবর্ধনার জবাবে প্রফেসর ড. রশিদুন্ নবী বলেন, “আমি পুরস্কার পাওয়ার জন্য কাজ করিনি। নজরুলকে বিশ্বদরবারে আরও ছড়িয়ে দিতে আমার প্রচেষ্টা এবং আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।”
প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. আহমেদ শাকিল হাশমী বলেন, “প্রফেসর ড. রশিদুন্ নবীর বাংলা একাডেমি নজরুল পুরস্কার প্রাপ্তি ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক অঙ্গন তথা সমগ্র দেশের জন্য এক বিরাট গৌরবের বিষয়। নজরুলচর্চায় তাঁর আজীবন সাধনা তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয়।”
বিশেষ অতিথি ড. সুমা রাণী রায় বলেন, প্রফেসর ড. রশিদুন্ নবী নজরুলচর্চা ও গবেষণার অন্যতম বাতিঘর। নজরুলসংগীতের শুদ্ধ রূপ ও বাণী নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে তাঁর দীর্ঘদিনের সাধনা রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তাঁর এ অর্জন তরুণ গবেষক ও সংগীতশিল্পীদের আরও অনুপ্রাণিত করবে।
সংবর্ধনা পর্ব শেষে সুর-মুকুরের শিল্পীদের পরিবেশনায় শুরু হয় ‘বাদল বঁধু এলো শ্রাবণ-সাঁঝে’ শীর্ষক সংগীতানুষ্ঠান। এতে কবি নজরুল ইসলামের প্রেম, বিরহ ও প্রকৃতিনির্ভর বর্ষার গান পরিবেশন করা হয়। শ্রাবণের আবহে নজরুলের কালজয়ী গানগুলোর মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।
আয়োজকরা জানান, নজরুলের সাহিত্য, সংগীত ও দর্শনকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে নজরুলচর্চার আগ্রহ সৃষ্টি করাই ‘সুর-মুকুর’র অন্যতম লক্ষ্য। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে ভবিষ্যতেও নিয়মিত সাংস্কৃতিক আয়োজন ও নজরুলকেন্দ্রিক বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে সংগঠনটি।
