এক লাখ টাকার ঋণের দুই মাসের সুদ মওকুফ-বাংলাদেশ ব্যাংকি

সম্পাদক-প্রকাশকঃ মারুফুর রহমান ফকির
বৃহস্পতি, 11.06.2020 - 03:01 AM
Share icon
Image

সময় ওয়েব ডেস্কঃ করোনাভাইরাসে সৃষ্ট ব্যবসায়িক মন্দা পরিস্থিতিতে দুই মাসের স্থগিত করা ঋণের সুদ আদায়ের হার ও প্রক্রিয়া নির্ধারণ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এক লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের এপ্রিল ও মে মাসের সুদ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে। তবে বিদেশি ঋণ ও ক্রেডিট কার্ডের ঋণগ্রহীতারা এ সুবিধা পাবেন না।

এছাড়া এক লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের বিপরীতে বার্ষিক ২ শতাংশ হারে এবং ১০ লাখ টাকার বেশি ঋণে ১ শতাংশ হারে সুদ মওকুফ পাওয়া যাবে। অর্থাৎ এক লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের সুদ (ঋণের সর্বোচ্চ সুদ ৯ শতাংশ ধরে) ২ শতাংশ মওকুফ করা হয়েছে। বাকি ৭ শতাংশ গ্রাহককে পরিশোধ করতে হবে।

১০ লাখ টাকার ওপরে ঋণের সুদ ১ শতাংশ মওকুফ করা হয়েছে। বাকি ৮ শতাংশ পরিশোধ করতে হবে গ্রাহককে। ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে সুদ আদায়ের সময় নির্ধারণ হবে। তবে একজন গ্রাহক ঋণের সুদ ১২ লাখ টাকার বেশি মওকুফ পাবেন না।

বুধবার (১০ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্লক হিসাবে স্থানান্তরিত মওকুফ অবশিষ্ট সুদ ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুনের মধ্যে মাসিক কিস্তিতে গ্রাহকের নগদ প্রবাহ বিবেচনায় ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে আদায় করতে পারবে ব্যাংকগুলো। ত‌বে যেসব ঋণ হিসাবে মাসিক কিস্তি নির্ধারিত রয়েছে বা মেয়াদপূর্তির তারিখ ২০২১ সালের জুন বা এর আগে নির্ধারিত রয়েছে সেসব ক্ষেত্রে উক্ত ঋণ ব্যাংকার গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে আদায় করা যাবে। সকল প্রকার নিয়মিত ঋণের ওপর এপ্রিল-মে মাসের আরোপিত সুদ আয় খাতে স্থানান্তর করা যাবে।

চলমান ঋণ হিসাবের ক্ষেত্রে মওকুফ অবশিষ্ট আদায়যোগ্য সুদ অনুমোদিত সীমাতিরিক্ত লিমিট হিসেবে গণ্য হবে। এক্ষেত্রে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে নবায়নের সময় সুদ সমন্বয় করা যাবে। এপ্রিল ও মে মাসের মওকুফ অবশিষ্ট সুদ আদায়ের নিমিত্তে সুদবিহীন ব্লক হিসাবে সংরক্ষণ করার পরিবর্তে ইন্টারেস্ট রিসিভাবল অ্যাকাউন্ট বা বিদ্যমান অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যাংকের নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী আলাদা হিসেবে সংরক্ষণ করতে হবে। এক্ষেত্রে উক্ত সুদের ওপর ২০২১ সালের ৩০ জুন তারিখ পর্যন্ত সময়ে কোনোভাবেই পুনরায় সুদ আরোপ করা যাবে না। কোনো ঋণের বিপরীতে মওকুফযোগ্য সুদ আদায় করা হয়ে থাকলে তা সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতাকে ফেরত প্রদান করতে হবে।


এছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যাংক তাদের প্রাপ্য সুদ ভর্তুকির পরিমাণ বাংলাদেশ ব্যাংককে নিশ্চিত হওয়ার পর গ্রাহক পর্যায়ে সুদ মওকুফ কার্যকর করতে পারবে।

এর আগে করোনাভাইরাসের কারণে দুই মাস সব ধরনের ঋণের সুদ স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত আরোপিত সুদ বা মুনাফা ‘সুদবিহীন ব্লকড হিসাবে’ স্থানান্তর করতে বলা হয়। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত ব্লক হিসাবে স্থানান্তরিত ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে কোনো সুদ আদায় করা যাবে না বলে ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে সুদ আদায়ের হার ও প্রক্রিয়া নির্ধারণ করে দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সম্প্রতি সরকার গত দুই মাসে করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য দুই হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়ার ঘোষণা দেয়। ব্যবসায়ীরা যে ঋণ নিয়েছেন, সেই ঋণের ১৬ হাজার ৫৪৯ কোটি টাকার যে সুদ হয়েছে, সেই সুদ পরিশোধ বাবদ সরকার এই টাকা দেবে। সুদের অবশিষ্ট অর্থ ব্যবসায়ীরা যাতে ১২ মাসের কিস্তিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে পরিশোধ করতে পারেন, সেই উদ্যোগও নেয় সরকার।

সরকারের দুই হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়ার ফলে আনুমানিক এক কোটি ৩৮ লাখ ঋণগ্রহীতা সরাসরি উপকৃত হবেন। কোভিড-১৯ এর কারণে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য সব বন্ধ ছিল। সেই কারণেই তাদের এ সুযোগ দেয় সরকার।

সূত্রঃ জাগোনিউজ

Share icon