প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নে তরুণদের নেতৃত্ব দিতে হবে: ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার
শনি, 08.08.2026 - 04:31 PM
Share icon
Image

প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন তখনই টেকসই হবে, যখন দেশের তরুণরা এই পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেবে বলে মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, সততা, সৃজনশীলতা ও দেশপ্রেমই আগামীর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি।

শনিবার গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, বাংলাদেশের (ইউএফটিবি) ক্যাম্পাসে আয়োজিত ‘RoboFusion 1.0–National Robotics Festival’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তিকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া নয়; এমন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে তরুণরা প্রযুক্তির ব্যবহারকারী থেকে প্রযুক্তির উদ্ভাবকে পরিণত হবে। এ লক্ষ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, সাইবার নিরাপত্তা, গবেষণা, উদ্ভাবন, স্টার্টআপ ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে জ্ঞানভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও উদ্ভাবনকেন্দ্রিক অর্থনীতিতে পরিণত করতে দক্ষ মানবসম্পদ, গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা সৃষ্টি জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শুধু পাঠদান ও ডিগ্রি প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং শিল্পখাতের সঙ্গে সহযোগিতার কেন্দ্রে পরিণত করতে হবে।

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, বিশ্ব বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, অটোমেশন, ইন্টারনেট অব থিংস, ক্লাউড কম্পিউটিং, সাইবার নিরাপত্তা, সেমিকন্ডাক্টর ও কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের দ্রুত বিকাশের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশকেও এ বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রযুক্তিকে শুধু ব্যবহার করলে হবে না, প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে হবে। গবেষণাগার থেকে নতুন প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন থেকে নতুন স্টার্টআপ তৈরি করতে হবে। তরুণদের চাকরিপ্রার্থী হওয়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সক্ষমতা অর্জনের আহ্বান জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গঠনে কাজ করছে। সবার জন্য ইন্টারনেট, ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে দক্ষ ও যুগোপযোগী মানবসম্পদ তৈরিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

তিনি জানান, এআই, রোবোটিক্স, ন্যানোটেকনোলজি ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ক্ষুদ্র উদ্ভাবনকে সফল উদ্যোগে পরিণত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ড ঘোষণা করেছেন বলেও জানান তিনি।

হাইটেক পার্কে শিল্প না গড়লে ব্যবস্থা

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কে জায়গা বরাদ্দ নিয়ে যেসব প্রতিষ্ঠান এখনো শিল্প স্থাপন করেনি, তাদের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, কালিয়াকৈর হাইটেক পার্ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি ফ্ল্যাগশিপ হাইটেক পার্ক। ইউরোপ, চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এখানে বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে। তাই সম্ভাবনাময় বিনিয়োগকারীদের জন্য জায়গা বরাদ্দের ব্যবস্থা করতে হবে।

ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, বাংলাদেশের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোক্তার আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মজিবুর রহমান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবু ইউসুফ, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়া ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য এম এ মুবিন খান।

এ সময় শিক্ষাবিদ, গবেষক, শিল্পখাতের প্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, উদ্ভাবক, প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ, গণমাধ্যমকর্মীসহ ইউএফটিবি রোবোটিক্স ক্লাবের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Share icon