প্রথিতযশা সাংবাদিক বজলুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ইয়্যুথ রিপোর্টার্স ক্লাবের ভার্চুয়াল মিটিং

সম্পাদক-প্রকাশকঃ মারুফুর রহমান ফকির
শনি, 27.02.2021 - 02:27 AM
Share icon
Image

নিজস্ব প্রতিনিধি: শেরপুর জেলার নকলা উপজেলায় ‘নকলা ইয়্যুথ রিপোর্টার্স ক্লাব’-এর উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধের সংগঠক প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক দৈনিক সংবাদ সম্পাদক প্রথিতযশা সাংবাদিক বজলুর রহমানের জীবনাদর্শ নিয়ে ভার্চুয়াল আলোচনা সভা করা হয়েছে।

২৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার দিবাগত রাতে নকলা ইয়্যুথ রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি মো. নূর হোসেনের সভাপতিত্ব ও সহ-সভাপতি মো. নাহিদুল ইসলাম রিজনের পরিচালনায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে ক্লাবটির উপদেষ্টা এশিয়ান টিভি ও দৈনিক খোলা কাগজ প্রতিনিধি খন্দকার জসিম উদ্দিন মিন্টু, দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ ও ডেইলী এশিয়ান এজ পত্রিকার প্রতিনিধি মো. মোশারফ হোসাইন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মোশাররফ হোসেন শ্যামল, সাংগঠনিক সম্পাদক  সিমানুর রহমান সুখন, দপ্তর সম্পাদক সেলিম রেজা, তথ্য ও প্রচার-প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান সৌরভ, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক সুমন আহম্মেদ, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. সুজন মিয়া, সদস্য রেজাউল হাসান সাফিতসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ অংশ গ্রহন করেন।

ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বক্তারা জানান, প্রথিতযশা সাংবাদিক বজলুর রহমান তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলার চরনিয়ামত গ্রামের আব্দুর রহমান মৌলভীর ঘরে ১৯৪১ সালের ৩ আগষ্ট জন্মগ্রহণ করেন। তিনি প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার আগেই মা হারান। পরে তিনি তার নানার বাড়ি নকলা উপজেলার বানেশ্বরদী এলাকায় চলে আসেন। এর আগেই ফুলপুর উপজেলার স্থানীয় এক প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণি পাশ করার পরে নকলা উপজেলার গণপদ্দি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্টিক পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উর্ত্তীণ হন। পরে ময়মনসিংহ আনন্দ মোহন কলেজে ও বরিশালের বজ্রমহন কলেজে পড়া লেখা করেন। তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতা বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

বজলুর রহমান সাংবাদিকতায় স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করার পর ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল সভাপতি ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনে কচি কাচাদের শিশু সংগঠন খেলা ঘর নামে একটি অরাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তুলেন। তার অনুপ্রেরণায় বাংলাদেশের অন্তত ৩০টি জেলায় খেলা ঘর নামে সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি ৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর ৫৮ সালের শিক্ষা আইনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। অত:পর পর্য়ায়ক্রমে ৬২’র সংবিধান, ৬৬’র ৬দফা, ৬৯’র গণঅভ্যুথান, ৭০’র সাধারণ নির্বাচন, ৭১’র মুক্তিযুদ্ধ এসকল আন্দোলনে ও দিবস গুলিতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন।

তাছাড়া প্রথিতযশা সাংবাদিক বজলুর রহমান তাঁর লেখায় সংবাদ পত্রিকার মাধ্যমে দেশ বিরোধীর বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তিনি ছিলেন সংবাদের এক সাহসী কলম সৈনিক। বজলুর রহমান মুক্তিযোদ্ধের পক্ষে লেখালেখি করে পরামর্শ মূলক লেখনীর মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। নরসিংন্দি জেলার ব্যারিস্টার আহমেদুল কবিরের সংবাদে দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন। ৯৬ এর পরে নিজে সম্পাদক নির্বাচিত হন। তার লেখনী ধারা দেশ মুক্তিযোদ্ধে অনেক এগিয়ে যায়।

রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদান রাখা বজলুর রহমান ২০০৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাত সাতটার সময় পুরান ঢাকার অরলেস গেইটে সাবেক কৃষি মন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীর সরকারি বাসভবনে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে রাজধানী ঢাকার কার্ডিয়াক হাসপাতালে বিশেষ কেবিনে চিকিৎসা দেওয়া অবস্থায় ২৬ ফেব্রুয়ারীতে তাঁর মৃত্যু হয়।

এর পর থেকে তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিবছর উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে কর্মরত সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন নানান কর্মসূচি পালন করা হয়। ২০২১ সালে বজলুর রহমানের ১৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য পালন উপলক্ষে ‘নকলা ইয়্যুথ রিপোর্টার্স ক্লাব’ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। এর অংশ হিসেবে ২৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার দিবাগত রাতে নকলা ইয়্যুথ রিপোর্টার্স ক্লাবের উদ্যোগে ভার্চুয়াল মাধ্যমে এক আলোচনা সভা করা হয়।

Share icon