শেরপুরে বিএনপির পৃথক কর্মসূচিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন
শেরপুর জেলা বিএনপির কমিটি না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা দলীয় বিভাজনের মধ্যেই শেরপুরে পৃথক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দলের দুই পক্ষ পৃথকভাবে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, আনন্দ শোভাযাত্রা ও সমাবেশের আয়োজন করে।
সকাল ৭টার দিকে শহরের রঘুনাথ বাজার এলাকায় জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ পলাশের নেতৃত্বে বিএনপির একাংশ জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করে।
এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আউয়াল চৌধুরীর নেতৃত্বে অপর অংশও পৃথকভাবে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করে।
পরে দুপুর ১২টার দিকে শহরের রঘুনাথ বাজার থানা মোড় এলাকায় সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. হযরত আলীর নেতৃত্বে আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রা শেষে সেখানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা।
সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মামুনুর রশিদ পলাশ, অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান পিপি, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম স্বপনসহ নেতারা।
অন্যদিকে বিকেল ৪টার দিকে জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আউয়াল চৌধুরীর নেতৃত্বে বিএনপির অপর অংশ শহরে আনন্দ শোভাযাত্রা বের করে। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল।
সমাবেশে বিএনপি নেতা ফজলুর রহমান তারা, আবু রায়হান রূপন, কামরুল ইসলাম, মো. দিদারুজ্জামান সিদ্দিকী দিদার ও মো. শওকত হোসেনসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।
দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘ প্রায় সাত মাস ধরে শেরপুর জেলা বিএনপির কমিটি না থাকায় সাংগঠনিক নেতৃত্ব নিয়ে দলের স্থানীয় পর্যায়ে বিভাজন রয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতেও। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি পৃথকভাবে পালনের মধ্য দিয়ে সেই বিভাজন আবারও দৃশ্যমান হয়েছে।
তবে পৃথক কর্মসূচি হলেও উভয় পক্ষের সমাবেশে বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
